জালাল আহমদ, ঢাবি:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে ব্যাপক আয়োজনে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিকেলে ইফতার মাহফিলের উদ্বোধন করেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ সৈয়দ আহনাফের বোন অ্যাডভোকেট সায়েদা আক্তার।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, শ্রমিক শক্তির মাজহারুল ইসলাম এবং যুব শক্তির অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি বলেন,
“এক বছরে এনসিপি অনেক দূর আসতে সক্ষম হয়েছে। রাজনীতিতে নির্বাচনী সমঝোতা ও জোটের মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পেয়েছে। এই ছয়টি আসন ভবিষ্যতে বৃদ্ধি হতে হতে একদিন তারা হয়তো-বা রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করবে। তবে সময় লাগবে, সবকিছু রাতারাতি হয় না।”

শুভেচ্ছা বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপি যে ফলাফল অর্জন করেছে এবং লাখ লাখ ভোটারের যে সমর্থন পেয়েছে, তা তারুণ্যের শক্তি ও দলের প্রতি আস্থারই প্রমাণ। তিনি সরকারি দলের উদ্দেশে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না।

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন,
“২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি প্রতিষ্ঠিত হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় লাভ করেছি। এতেই সন্তুষ্ট নই। সামনের দিনগুলোতে আমাদের অর্জন আরও বৃদ্ধি করব।”

তিনি নেতাকর্মীদের তৃণমূলকে শক্তিশালী করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, এনসিপি সংস্কার ও বিচারের দাবিতে সরব থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই এনসিপির আত্মপ্রকাশ। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করে দলটি।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল ‘বিপ্লব, বিকল্প এবং বিনির্মাণ’। অনুষ্ঠানে কোটা সংস্কার আন্দোলন, আওয়ামী লীগের পতন এবং এনসিপির এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সানা উল্লাহ।